মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে ট্যাংকার ভাড়া আকাশছোঁয়া হওয়ায় এশীয় প্রতিযোগীদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্টের তেল শোধনাগারগুলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতায় ট্যাংকার চলাচল কমেছে, আর যুদ্ধঝুঁকি বিমার প্রিমিয়াম ও দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে জাহাজভাড়া বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্ট থেকে এশিয়ায় অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ভাড়া এক বছর আগের ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৫ ডলার থেকে বেড়ে এখন ৩০-৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে মার্কিন শোধনাগারগুলোর রিফাইনিং মার্জিন দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
ঘরে সস্তা ভারী তেল, বাইরে চড়া জাহাজভাড়া
কানাডা ও ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ প্রচুর, আর ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের (ডব্লিউসিএস) মতো কানাডীয় তেল ডব্লিউটিআইয়ের তুলনায় আরও বেশি ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে। গালফ কোস্টের ৭০ শতাংশের বেশি শোধনাগার ভারী তেল প্রক্রিয়াজাতের উপযোগী, ফলে তাদের কাঁচামালের খরচ কমেছে। অন্যদিকে একই ধরনের তেল আমদানিতে এশীয় প্রতিযোগীদের জাহাজভাড়া ও বিমায় বেশি খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
- ভ্যালেরো এনার্জি: অপরিশোধিত তেল ও ফিডস্টক সরবরাহ ও ট্রেডিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট র্যান্ডি হকিন্স বলেন, বাজারে এখন মূল আলোচনার বিষয় জাহাজভাড়া। প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা গ্যারি সিমন্স বলেন, বাড়তি জাহাজভাড়া লাতিন আমেরিকার রপ্তানি বাজারে ভ্যালেরোকে এগিয়ে রাখছে, যেখানে তাদের মূল প্রতিযোগী ইউরোপীয় তেল।
- ফিলিপস ৬৬: নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান ম্যান্ডেল বলেন, ডব্লিউসিএস-ডব্লিউটিআই ব্যবধান প্রতি ১ ডলার বাড়লে প্রায় ১৪ কোটি ডলারের লাভ হয়। যুদ্ধ শুরুর আগেই প্রতিষ্ঠানটি ৪০টির বেশি জাহাজ টাইম-চার্টারে নিয়েছিল, যা তাদের সম্পদভিত্তিক পরিবহন চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটায়।
- ম্যারাথন পেট্রোলিয়াম: চতুর্থ প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ কানাডীয় ভারী তেল প্রক্রিয়াজাতের আশা করছে; প্রধান নির্বাহী মেরিঅ্যান ম্যানেন বলেন, অন্তত ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মার্জিন উঁচু থাকবে।
- এইচএফ সিনক্লেয়ার: অন্তত ২০২৭ সাল পর্যন্ত দামের ব্যবধান বেশি থাকবে বলে আশা করছে।
- পিবিএফ ও সানকর: এরাও যুদ্ধের আগে জাহাজবহর চার্টার করে রাখায় স্পট ভাড়ার উল্লম্ফন থেকে সুরক্ষিত।
অ্যারো শিপিংয়ের বিশ্লেষক ডেলিয়া হে-র হিসাবে, জাহাজভাড়া প্রতি ১ ডলার বাড়লে ডিজেলের মার্জিন অন্তত আট গুণ বেড়েছে।
উপসাগরীয় সংকটে বাড়তি জাহাজভাড়া ও বিমা খরচের চাপ পড়ছে বাংলাদেশের মতো আমদানিকারক দেশেও। আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে চুক্তির ৬৫ শতাংশ এলএনজি কার্গো দেবে কাতারএনার্জি এবং জাহাজভাড়া বাড়ায় ফল রপ্তানি আয় কমেছে ৭৬ শতাংশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অবলম্বনে (বেয়ার্ড মেরিটাইম, ৬ নভেম্বর ২০২৬)।




