২০২০ সালের পর বিশ্বে জাহাজ নির্মাণের অর্ডার সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে, অথচ শিপইয়ার্ডগুলোর নির্মাণক্ষমতা বেড়েছে মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে আগামী দুই বছরে নতুন জাহাজ সরবরাহে বড় ধরনের জট তৈরি হতে পারে। ড্যানিশ শিপ ফাইন্যান্সের সর্বশেষ শিপিং মার্কেট রিভিউয়ের বরাতে এ খবর দিয়েছে স্প্ল্যাশ২৪৭।
শিপইয়ার্ডগুলোর হাতে থাকা অর্ডার শেষ করতে ২০২০ সালে যেখানে ১.৪ বছর লাগত, এখন লাগবে ৩.৭ বছর। বর্তমান অর্ডারবুক বিশ্বের বিদ্যমান জাহাজবহরের ১৯ শতাংশের সমান, ছয় বছর আগে যা ছিল ৭ শতাংশ।
রেকর্ড অর্ডার, বেশির ভাগই চীনে
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ক্লার্কসনস রিসার্চ জানায়, বিশ্বের জাহাজ নির্মাণ অর্ডারবুক রেকর্ড ২২ কোটি ৬১ লাখ কমপেনসেটেড গ্রস টনে (সিজিটি) পৌঁছেছে, যা ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের আগের সর্বোচ্চ ২২ কোটি ৫৫ লাখ সিজিটিকে ছাড়িয়ে গেছে। এই অর্ডারের মূল্য প্রায় ৭০ হাজার কোটি ডলার, যার ৬৮ শতাংশই চীনের শিপইয়ার্ডগুলোর হাতে।
ড্যানিশ শিপ ফাইন্যান্স বলছে, ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছরই শিপইয়ার্ডগুলো যত জাহাজ সরবরাহ করেছে, তার চেয়ে বেশি অর্ডার নিয়েছে; যদিও এ সময়ে সক্রিয় ইয়ার্ডগুলোর উৎপাদন ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে উৎপাদন চলছে সক্ষমতার ৮৬ শতাংশে।
২০২৮ সালের জন্য শীর্ষ ইয়ার্ডে বুকিং ১৬৪ শতাংশ
- সবচেয়ে দক্ষ শিপইয়ার্ডগুলো ২০২৮ সালের জন্য তাদের সক্ষমতার ১৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বুক হয়ে আছে; ফলে বড় ধরনের দেরি প্রায় অনিবার্য বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
- পাঁচ বছরের জাহাজ-সূচি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চুক্তিবদ্ধ টনেজের প্রায় ৭৮ শতাংশ নির্ধারিত বছরেই সরবরাহ হয়; প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ পরের বছরগুলোতে পিছিয়ে যায় এবং প্রায় ৫ শতাংশ বাতিল হয়।
- এই রেকর্ড বিবেচনায় নিলেও আগের বছরের পিছিয়ে পড়া জাহাজ যোগ করার আগেই ২০২৭ ও ২০২৮ সালের নির্ধারিত উৎপাদন বিশ্বের মোট ইয়ার্ড-সক্ষমতার ৮৪ থেকে ৮৯ শতাংশ দখল করবে।
- ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর ১ কোটি থেকে ১ কোটি ১০ লাখ সিজিটি সরবরাহ পিছিয়ে যেতে পারে। ২০২৭ সালের দেরি হওয়া জাহাজ ২০২৮ সালে গড়ালে ওই বছরের কাজের চাপ প্রায় ৬ কোটি সিজিটিতে দাঁড়াতে পারে, যা উপলব্ধ সক্ষমতার ১০৭ শতাংশ।
পুরোনো জাহাজের দামে চাপ
প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, ভিএলসিসি, সুয়েজম্যাক্স, কেপসাইজ ও বড় গ্যাস ক্যারিয়ার শ্রেণিতে ২০ বছরের বেশি পুরোনো সব জাহাজ ভেঙে ফেললেও আসন্ন নতুন জাহাজের সংখ্যা পূরণ হবে না। এতে নতুন জাহাজ আসতে থাকলে পুরোনো জাহাজের মূল্যে উল্লেখযোগ্য চাপ পড়তে পারে। বিষয়টি চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, যা মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজের নিয়মিত সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
ক্লার্কসনস বিশ্বজুড়ে প্রায় ২২৫টি শিপইয়ার্ড সম্প্রসারণ প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করছে, যার তিন-চতুর্থাংশের বেশি চীনে। গত সপ্তাহে মোনাকোতে মেরিটাইম সিইও ফোরামে স্টার বাল্কের মিলেনা পাপ্পাস বলেন, চারদিকে নতুন ইয়ার্ড গড়ে উঠছে এবং বন্ধ হয়ে থাকা ইয়ার্ডগুলো আবার চালু হচ্ছে; কিছু সম্ভাব্য নির্মাতা জাহাজমালিকদের নিজেদেরই ইঞ্জিন সংগ্রহ করতে বলেছে। দামিকো সোসিয়েতা দি নাভিগাৎসিওনের প্রধান চেজারে দামিকো এবং সিটিএমের চেয়ারম্যান জন মাইকেল রাদজিউইল অতিরিক্ত সক্ষমতার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন; রাদজিউইলের মতে, ড্রাই কার্গো জাহাজের ঘাটতি বেশি দিন থাকবে না।
আরও পড়ুন: মিথানলচালিত কনটেইনার জাহাজ মার্স্ক টোকিও।
স্প্ল্যাশ২৪৭-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে (৬ নভেম্বর ২০২৬), ড্যানিশ শিপ ফাইন্যান্স ও ক্লার্কসনস রিসার্চের তথ্যসূত্রে।




